মতলব উত্তর উপজেলায় এক মাস আগে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর বিয়ে হয়েছে। সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়লে পরীক্ষা-নিরীক্ষায়ল জানা গেছে ওই কিশোরী ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।
পরে জানা গেছে, এক স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা ওই কিশোরীকে অপর এক নারীর সহায়তায় ধর্ষণ করেছেন। এতে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েছে।
এদিকে কিশোরীকে অন্তঃসত্ত্বা করার অভিযোগে স্থানীয় কাইয়ুম মাল নামে ওই স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (১০ জুন) চাঁদপুর জেলা পুলিশ সুপার রবিউল হাসানের সার্বিক নির্দেশনায় মতলব উত্তর থানার পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- উপজেলার পশ্চিম হানিরপাড় এলাকার মো. কাইয়ুম মাল (৩৬) এবং একই এলাকার মোসা. তানিয়া আক্তার (২৮)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কাইয়ুম মাল কলাকান্দা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৩ সালে ভুক্তভোগীর মা জীবিকার তাগিদে বিদেশে চলে গেলে ওই শিক্ষার্থী তার বড় বোনের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করতেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ অক্টোবর অভিযুক্ত কাইয়ুম মাল অপর অভিযুক্ত নারীর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগও করা হয়েছে।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত এক মাস আগে পারিবারিকভাবে ভুক্তভোগীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসা প্রতিবেদনে তিনি ২৮ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা যায়। পরে পরিবারের জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ পায়।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবীর হুসনাইন সানীব বলেন, এটি শুধু একটি ধর্ষণের ঘটনা নয়; বরং সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়ের নির্মম উদাহরণ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, ভিকটিমের আপন বড় বোনই তার ছোট বোনের ওপর সংঘটিত এ জঘন্য অপরাধে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সহায়তা করেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে।