প্রিন্ট তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

ফরিদগঞ্জে বিদেশি অনুদানের নামে প্রতারণা, হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ মে, ২০২৬

বিদেশি সংস্থার অনুদান ও খাদ্য সহায়তার প্রলোভন দেখিয়ে চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার শতাধিক নিম্নআয়ের মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকারও বেশি হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে। প্রতারকদের মিথ্যা আশ্বাসে বিশ্বাস করে অনেকে ধারদেনা করে, আবার কেউ জীবনের সঞ্চিত অর্থ তুলে দিয়েছেন তাদের হাতে। এখন টাকা ফেরত না পেয়ে চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে ভুক্তভোগীদের।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়ায় একটি চক্র। তারা নিজেদের বিদেশি সাহায্য সংস্থার প্রতিনিধি পরিচয় দিয়ে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের তালিকা তৈরি শুরু করে। প্রতিটি পরিবারকে বড় ধরনের খাদ্য সহায়তা দেয়া হবে বলে প্রচার চালায়। পরে তালিকাভুক্ত প্রতিটি পরিবারের জন্য আড়াই কেজি গরুর মাংস, ৫ কেজি বয়লার মুরগি, ৫ লিটার সয়াবিন তেল, আড়াই কেজি চিনি, আটা, মসুর ডাল, মুগ ডাল, বুটের ডাল ও আতপ চাল দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।

তবে এসব অনুদান পেতে হলে প্রতিটি নামের বিপরীতে ৩ হাজার টাকা করে জমা দিতে হবে বলে জানানো হয়। একপর্যায়ে অনেকে একাধিক নাম অন্তর্ভুক্ত করতে উৎসাহিত হয়। কেউ ১০টি, কেউ ২০টি, আবার কেউ ১০০টিরও বেশি নাম দিয়ে লাখ লাখ টাকা জমা দেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও কোনো খাদ্য সহায়তা না পেয়ে ধীরে ধীরে প্রতারণার বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

 

অভিযোগ উঠেছে, এ প্রতারণার সঙ্গে জড়িত রয়েছেন কেরানীগঞ্জ উপজেলার মাসুম (৩৩), ইয়াছিন মোস্তফা পায়েল (২৬) এবং নারায়ণগঞ্জের পলি বেগম (৪৯)। তারা কৌশলে গ্রামের সহজ-সরল মানুষদের বিশ্বাস অর্জন করে টাকা সংগ্রহের পর এলাকা ছেড়ে চলে যায়।

সরেজমিনে গিয়ে ১৫ জন ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মো. আজাদ ৬০টি নামের বিপরীতে দিয়েছেন ২ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। খুকি বেগম দিয়েছেন ৫ লাখ টাকা। পারভীন দিয়েছেন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। আসমা আক্তার দিয়েছেন আরও ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। এছাড়া হানিফ হাওলাদার, ফাতেমা বেগম, আমেনা বেগম, আনোয়ারা বেগম, হিরা আক্তার ও তাসলিমা আক্তারসহ আরও অনেকে কয়েক হাজার থেকে লাখ টাকা পর্যন্ত দিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতারকরা বিশেষভাবে দরিদ্র পরিবারের নারীদের টার্গেট করে। এরপর বিদেশি অনুদান, সরকারি অনুমোদন ও খাদ্য সহায়তার কথা বলে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে। পরে তালিকা তৈরির নামে টাকা সংগ্রহ করে গা-ঢাকা দেয়।

এক ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, গরিব মানুষ হিসেবে একটু সহায়তার আশায় টাকা দিয়েছিলাম। এখন বুঝতে পারছি সবই ছিল প্রতারণা। ধারদেনা করে টাকা দিয়েছি, এখন কীভাবে শোধ করবো বুঝতে পারছি না।

এ বিষয়ে ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

 

 

 

 

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন