প্রিন্ট তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

স্থানীয় পশুতেই মিটবে চাঁদপুরের কোরবানির বড় অংশের চাহিদা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২০ মে, ২০২৬

ঈদুল আজহায় চাঁদপুর জেলায় পারিবারিক ও খামারিদের লালন-পালন করা গবাদিপশু দিয়ে কোরবানির চাহিদা মেটে। এবারও জেলায় উৎপাদিত গবাদিপশুর সংখ্যা ৬৬ হাজার ৯৮টি।

চাহিদার তুলনায় ঘাটতি রয়েছে নয় হাজার পশুর।
খামারিরা বলছেন, ভারত থেকে গরু আমদানি না হলে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ জানিয়েছে, কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না।

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর থেকে জানা গেছে, কোরবানির জন্য জেলায় প্রস্তুত রয়েছে ২৭ হাজার ৩৪৬টি ষাঁড়, আট হাজার তিনশ ৬৬টি বলদ, ১০ হাজার ৫৭১টি গাভী, ২৩টি মহিষ, ১৯ হাজার তিনশ ৪৬টি ছাগল এবং চারশ ৪৬টি ভেড়া।

সরেজমিন ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার আট উপজেলায় কোরবানির পশুর যোগান দিতে চার হাজার ১৫৫ জন উদ্যোক্তা রয়েছেন। অনেকেই কয়েক মাস আগে কিছু ষাঁড় সংগ্রহ করে কোরবানিযোগ্য করে তোলেন।

বেশিরভাগ খামারি স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাবার দেন এসব পশুকে। ছোট থেকে মাঝারি আকারের ষাঁড়গুলো বিক্রি হয় স্থানীয় কোরবানির পশুর হাটে। বড় আকারের ষাঁড় খুবই কম বিক্রি হয়। এসব বিক্রির জন্য অনলাইন মার্কেট বেশি ব্যবহার হয়।
বেশ কয়েকটি খামারে দেখা গেছে, বিক্রয়যোগ্য ষাঁড়গুলোর যত্ন নিচ্ছেন শ্রমিকরা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এসব ষাঁড় বিক্রি হবে কোরবানির পশুর হাটে।

সদর উপজেলার নানুপুর গ্রামের খামারি খালেদ খান বলেন, তিনি গত ২০ বছর ধরে উদ্যোক্তা হিসেবে গবাদিপশু পালন করে আসছেন। রমজান মাসের আগ থেকে ষাঁড় ক্রয় করেন। সেগুলো কয়েক মাস লালন-পালন করে বিক্রি করেন। কোরবানির হাটের জন্য প্রস্তুত করেছেন বেশ কয়েকটি ষাঁড়। দাম ৯০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার মধ্যে।

ভারতীয় ষাঁড় আমদানি না হলে ভালো দাম পাবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

একই ইউনিয়নের ঘাষিপুর গ্রামের খামারি আহম্মদ আলী বলেন, তিনি দেশীয় খাবার দিয়ে ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। প্রতিবছর এভাবে কোরবানিতে বিক্রি করেন। এ বছর তার খামারে বিভিন্ন জাতের ৩২টি গরু রয়েছে। এর মধ্যে ষাঁড় রয়েছে সাতটি।

সদরের মৈশাদি ইউনিয়নের হামানকর্দ্দি গ্রামের নার্গিস বেগম তিনটি বড় ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন। তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী এসব ষাঁড়ের মধ্যে বড়টির নাম ‘রাজা বাবু’। এটির দাম চাচ্ছেন ১২ লাখ টাকা। চার বছর বয়সী ‘হামানকর্দ্দি কিং’র দাম চাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা। সবচেয়ে ছোট ষাঁড়টির দাম চাচ্ছেন পাঁচ লাখ টাকা।

এই খামারে শ্রমিক মো. মোসলেম। তিনি বলেন, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত ঘাস, খৈল, খড় ও ভূষি খাওয়ানো হয়েছে এসব ষাঁড়কে। আমি নিজে এসব ষাঁড়ের যত্ন নিচ্ছি।

একই ইউনিয়নের আরেক উদ্যোক্তা তানভীর আহমেদ বলেন, স্থানীয় ব্যবস্থাপনায় ষাঁড়গুলোকে খাবার দিয়ে কোরবানির জন্য উপযুক্ত করা হয়েছে। আশা করি, বাজারে ভালো দাম পাওয়া যাবে।

শহরের নিউ ট্রাক রোডের বাসিন্দা আব্দুল বারেক বলেন, সাধারণত শহরের লোকজন স্থানীয় খামারিদের ষাঁড় কিনতে আগ্রহী। গত এক যুগেরও বেশি সময় ধরে আমাদের পরিবার স্থানীয় খামারিদের গরু কিনে কোরবানি দেয়। ব্যাপারীদের গরু নিয়ে শঙ্কা থাকে। তারা মোটাতাজাকরণের জন্য অনেক সময় ওষুধ প্রয়োগ করে।

চাঁদপুর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জ্যোতির্ময় ভৌমিক বলেন, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদা ৭৫ হাজার। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী খামারিদের কাছে রয়েছে ৬৬ হাজার পশু। বাকি নয় হাজারের জোগান দেবেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। আশা করি, কোনো ধরনের সংকট হবে না।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন