প্রিন্ট তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

প্রবাসের স্বপ্ন দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ, কচুয়ার হুমায়ুন গাজীর বিরুদ্ধে গ্রামজুড়ে ক্ষোভ

স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশিত: ৪ মে, ২০২৬

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার পালাখাল মডেল ইউনিয়নের মেঘদাইর গ্রামে বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয়দের দাবি, এক প্রবাসী আদম বেপারির কাছে পুরো গ্রামই যেন জিম্মি হয়ে পড়েছে। কেউ টাকা দিয়ে, কেউ সালিশ করে, আবার কেউ বিনিয়োগ করে এখন চরম বিপাকে রয়েছেন। প্রবাসের স্বপ্ন ভেঙে সর্বস্বান্ত হয়ে গেছে গ্রামবাসী।

অভিযুক্ত মো. হুমায়ুন গাজী উপজেলার ৫নং পশ্চিম সহদেবপুর ইউনিয়নের দারাশাহী তুলপাই গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন মালদ্বীপে ছিলেন। দেশে এসে সহজ-সরল গ্রামবাসীদের মালদ্বীপে পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে প্রতিজনের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা করে নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রথমে মেঘদাইর গ্রামের টং দোকানদার ইয়াছিন মিয়ার ছেলে শাকিবুল ইসলামকে বিদেশে পাঠানোর কথা বলেন তিনি। এজন্য দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। ইয়াছিন মিয়া এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে এক লাখ টাকা এবং পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেন। পরে মালদ্বীপে যাওয়ার পর বাকি টাকার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হলে সুদে টাকা এনে সেটিও পরিশোধ করেন তিনি।

এরপর ভিসা-টিকিট হয়ে গেছে এমন খবর ছড়িয়ে পড়লে আরও কয়েকটি পরিবার তার সঙ্গে যোগাযোগ করে। একই গ্রামের নয়ন হোসেন, আব্দুল্লাহ, মঞ্জির হোসেনসহ আরও কয়েকজন বিদেশ যাওয়ার আশায় টাকা দেন। তারা জানান, প্রত্যেকের কাছ থেকেই দুই লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে, তবে কাউকেই নির্ধারিত সময়ে বিদেশে পাঠানো হয়নি।

ভুক্তভোগীরা আরও জানান, বারবার টাকা ফেরতের আশ্বাস দিলেও তা বাস্তবায়ন করেননি হুমায়ুন গাজী। পরে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ বসে। সালিশে তিনশ টাকার স্ট্যাম্পে তিন কিস্তিতে টাকা ফেরতের লিখিত সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু সেটিও কার্যকর হয়নি।পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা কচুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

এ বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা এএসআই মো. মোর্শেদুল আলম জানান, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালতে মামলা হিসেবে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর জেল হাজতে থেকে আইনজীবীর মাধ্যমে আপসের প্রস্তাব দেন অভিযুক্ত। এরপর কিছু টাকা পরিশোধ করলেও বাকি টাকা না দিয়েই আবার মালদ্বীপে চলে যান অভিযুক্ত হুমায়ুন।

এদিকে ভুক্তভোগীদের দাবি, বর্তমানে হুমায়ুন গাজী ফেসবুকে Md Humayun Gazi আইডি থেকে গ্রামের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সালিশদারদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও আপত্তিকর পোস্ট দিয়ে মানহানির চেষ্টা করছেন।

অভিযোগের বিষয়ে হুমায়ুন গাজী বলেন, বিদেশ পাঠানোর কথা বলে টাকা নিয়েছিলাম। বেশিরভাগ টাকা ফেরত দিয়েছি, কিছু বাকি আছে। আমাকে জোরপূর্বক স্ট্যাম্প লিখে নেওয়া হয়েছে এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন