জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার বেলগাছা ইউনিয়নের ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পাশের একটি ডোবায় বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ভাসতে দেখা গেছে। ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সিরাপসহ বিভিন্ন ধরনের ওষুধ পানিতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুলকান্দী-বেলগাছা সড়কের পাশে অবস্থিত ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকের পশ্চিম পাশের ডোবাজুড়ে পড়ে আছে বিভিন্ন সরকারি সরবরাহের ওষুধ। বেশ কিছু ওষুধের গায়ে স্পষ্টভাবে লেখা রয়েছে ‘সরকারি সরবরাহ’।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রায় দুই বছর ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ ছিল। কয়েক মাস আগে সীমিত আকারে সেবা চালু হলেও রোগীরা ওষুধ চাইলে প্রায়ই ‘ওষুধ নেই’ বলা হতো। অথচ এখন সেই সরকারি ওষুধ ডোবায় পড়ে থাকতে দেখে ক্ষোভে ফুঁসছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় বাসিন্দা রহিমা বেগম বলেন, “হাসপাতাল বন্ধ ছিল দীর্ঘদিন। হঠাৎ খুললেও ওষুধ পাওয়া যেত না। এখন দেখি ডোবায় সরকারি ওষুধ ভাসছে।
আরেক বাসিন্দা সাজেদুল অভিযোগ করেন, “গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য আসা ওষুধ সঠিকভাবে বিতরণ না করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়েছে। কারা করেছে, তদন্ত করে বিচার হওয়া উচিত।
ক্লিনিকের জমিদাতা মজিবুর রহমান বলেন, অসহায় মানুষের চিকিৎসাসেবার জন্য তিনি বিনামূল্যে জমি দিয়েছিলেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ক্লিনিক বন্ধ থাকা এবং এখন ওষুধ ফেলে দেওয়ার ঘটনায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ মার্চ ধনতলা কমিউনিটি ক্লিনিকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয় তিনজন স্বাস্থ্যকর্মীকে। তারা হলেন, চরমুন্নিয়া কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি মো. মিস্টার, স্বাস্থ্য সহকারী শারমীন জান্নাত এবং পরিবার কল্যাণ সহকারী মোছা. রনি বেগম।
অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সিএইচসিপি মো. মিস্টার বলেন, ক্লিনিকটি দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল, তবে সরকারি ওষুধ কারা ডোবায় ফেলেছে তা তার জানা নেই।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য সহকারী ও পরিবার কল্যাণ সহকারী জানান, ডোবায় থাকা ওষুধের কিছু অংশ মেয়াদোত্তীর্ণ মনে হয়েছে। তবে সেগুলো ক্লিনিকের বরাদ্দকৃত কি না, তা তদন্তে নিশ্চিত হতে হবে।
ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা এ এ এম আবু তাহের জানান, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসার পর ক্লিনিক পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ওষুধ ডোবায় ফেলার ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি দোষীদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে হবে।