চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইকবাল কবির, তাঁর স্ত্রী ও দুই সন্তানের ব্যাংক হিসাব তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাঁদের সম্ভাব্য অবৈধ সম্পদের তথ্য যাচাইয়ে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্র জানায়, গত ৬ এপ্রিল পিরোজপুর জেলা কার্যালয়ের অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা ও উপসহকারী পরিচালক পার্থ চন্দ্র পাল স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সদর দপ্তরের কাছে ইকবাল কবির ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের আর্থিক তথ্য চাওয়া হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও তাঁদের ব্যাংক হিসাবসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়েছে।
তলব করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন ইকবাল কবিরের স্ত্রী নোশিন তাবাসসুম এবং তাঁদের দুই সন্তান রইন রবাহ ও আনাইয়া মাহ্ নূর।
দুদক সূত্রে আরও জানা যায়, হাজীগঞ্জে যোগদানের আগে ইকবাল কবির পিরোজপুরের নলছিটি উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। ওই সময় ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তাঁকে সেখান থেকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়। পরবর্তী সময়ে তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
ইকবাল কবির ঝিনাইদহ সদর উপজেলার পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আরাপপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি রইস উদ্দিন মোল্লার ছেলে।
এদিকে হাজীগঞ্জ উপজেলার ৬ নং বড়কুল পূর্ব ইউনিয়নের এন্নাতলি গ্রামে একটি সড়ক নির্মাণকাজে ধীরগতি ও নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা একাধিকবার বিষয়টি জানালেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ তৈরি হয়।
একপর্যায়ে শতাধিক এলাকাবাসী তাঁর কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে ঘেরাও করে রাখে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিনি নিজ কার্যালয়ের বাথরুমে আশ্রয় নেন বলে জানা গেছে।
দুদকের অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ইকবাল কবির ও তাঁর পরিবারের ব্যাংক হিসাব ও সম্পদের তথ্য যাচাই-বাছাই চলছে।
বর্তমানে ইকবাল কবির রাজধানী ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ধানমন্ডি এলাকার ক্রিসেন্ট রোডের ফ্ল্যাট ৪/এ-তে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন।