প্রিন্ট তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

চাঁদপুরে মুখ থুবড়ে পড়েছে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল, ২০২৬

গ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে প্রতিষ্ঠিত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোর কার্যক্রম চাঁদপুরে প্রায় ভেঙে পড়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধের তীব্র সংকট এবং কর্মীদের নিয়মিত বেতন না হওয়ায় এরই মধ্যে জেলার অনেকগুলো ক্লিনিক বন্ধ হয়ে গেছে। যেগুলো চালু আছে, সেগুলোতেও চলছে নামমাত্র সেবা। স্বাস্থ্যবিভাগের আগের মতো কর্তৃত্ব না থাকায় এবং তদারকির অভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

শনিবার (১৮ এপ্রিল) খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনার দুর্গম চরাঞ্চলসহ আটটি উপজেলায় মোট ২৪৫টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে। একসময় এসব ক্লিনিক থেকে বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ৩১ প্রকারের ওষুধ পাওয়া গেলেও এখন তা অতীত হতে চলেছে।

 

একসময় চাঁদপুর সদরের মেঘনা পাড়ের আনন্দবাজার কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডারের মাধ্যমে নিয়মিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ও ওষুধ পাওয়া যেত। কিন্তু বর্তমানে ক্লিনিকটিতে তালা ঝুলছে। ওষুধের সরবরাহ নেই, বন্ধ রয়েছে প্রোভাইডারের বেতনও। ফলে ক্লিনিক ছেড়ে তিনি লাপাত্তা হয়েছেন। সরকারি এই স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন আশপাশের প্রান্তিক মানুষ। জেলার আরও কয়েকটি ক্লিনিকের একই অবস্থা। হাতেগোনা কয়েকটি চালু থাকলেও সেখানে কাঙ্ক্ষিত সেবা মিলছে না।
 
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে এসব কেন্দ্র থেকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা মিললেও এখন দায়সারাভাবে কাজ চলছে। বেশিরভাগ ক্লিনিক বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা। তাছাড়া কোথাও ক্লিনিক চালু থাকলেও সেখানে পর্যাপ্ত ওষুধ নেই। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন গ্রামের নারী ও শিশুরা।
কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে যারা দায়িত্ব পালন করছেন, তারাও পড়েছেন নানা সংকটে। বর্তমানে ট্রাস্টের মাধ্যমে তাদের বেতন দেয়া হলেও তা নিয়মিত নয়। তারপরও তারা হাসিমুখে সেবা দেয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর বাইরেও রয়েছে কাঠামোগত সমস্যা। দীর্ঘদিন ধরে ভবনগুলো রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত বা সংস্কার না করায় অনেক ক্লিনিক জরাজীর্ণ ও বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।
 
ক্লিনিকগুলোর এমন দশার কারণ হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে দায়বদ্ধতার অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। চাঁদপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ নূর আলম দীন জানান, বর্তমানে ক্লিনিকগুলোর ওপর জেলা বা উপজেলা স্বাস্থ্যবিভাগের আগের মতো কোনো কর্তৃত্ব নেই, রয়েছে কেবল নজরদারি।
 
সিভিল সার্জন বলেন, ‘আগে প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডারদের নিয়ে আমাদের সব ধরনের তদারকি ছিল। কিন্তু এখন ক্লিনিকগুলো ট্রাস্টের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় আমাদের খবরদারি বা কর্তৃত্ব আগের মতো নেই, তা বেশ সীমিত হয়ে গেছে।’
 
দায়বদ্ধতার অভাবে কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডাররা নিজেদের মতো করে চলছেন বলে জানান তিনি।
 
গ্রামীণ জনপদের অতিদরিদ্র ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, দ্রুত কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো পূর্ণাঙ্গরূপে চালু করা হোক। শহরের হাসপাতালে না ছুটে বাড়ির পাশেই যেন তারা সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে এমনটাই তাদের দাবি।

 

 

 

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন