ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে চাঁদপুরে সমন্বিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে সচেতনতা র্যালি ও পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) সকালে সার্কিট হাউজের সামনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক।
তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অংশ। আমাদের নিজেদের বাড়িঘর ও আঙ্গিনা পরিস্কার রাখতে হবে। বিশেষ করে পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের গুরত্বসহকারে অবহিত করতে পারলে সুফল পাওয়া যাবে। এক্ষত্রে জেলা প্রশাসক দাপ্তরিকভাবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই বার্তা পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে পারেন, তাহেল আমরা কিছুটা হলেও উপকৃত হব।
বিদেশে দেখা পদ্ধতির উদাহরণ টেনে এমপি মানিক বলেন, আমাদের শহরের যেসব পয়েন্টে ময়লা স্তুপ করা হয়, সেসব স্থানে ট্রাক্টরের পিছনের অংশের মত করে বক্সা আকারে রাখা যায়, তাহলে খুব সহজে হুক দিয়ে টেনে নির্দিষ্ট স্থানে ময়লা অপসারণ করা যাবে। তবে এটি মডেল হিসেবে পৌরসভা উদ্যোগ নিতে পারে। যদি সফল হন, তাহলে শহরজুড়ে করা যাবে। ক্লিন চাঁদপুর সহ শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
র্যালী পূর্বে আরো বক্তব্য দেন চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার ও পুলিশ সুপার মো. রবিউল হাসান।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শহরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়েছে। যে সকল স্থানে এডিস মশার প্রাদুর্ভাব বেশি সে সকল স্থান নির্ধারণ করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু যাতে মহামারী আকার ধারণ করতে না পারে সে লক্ষ্যে বাড়ির ছাদ বাগান, আঙিনা, টব এবং বাড়ির আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।
জেলা প্রশাসন ও পৌরসভা যৌথ আয়োজনে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ক্লিন চাঁদপুরের সভাপতি এডভোকেট নুরুল আমিন খান আকাশের নেতৃত্বে সদস্যরা ও পৌরসভার কর্মচারীরা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতার অভিযানে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ডেঙ্গু কি? ডেঙ্গু ভাইরাস জনিত একটি জ্বর। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গুজ্বর ছড়ায়। সাধারণ চিকিৎসাতেই ডেঙ্গুজ্বর সেরে যায়, তবে হেমারেজিক ডেঙ্গুজ্বর মারাত্মক হতে পারে।
ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ : শরীরের তাপমাত্রা হঠাৎ করে ১০৪ ডিগ্রি ১০৫ ডিগ্রি পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। মাথা ব্যাথা, মাংসপেশী, চোখের পেছনে এবং ঘাড়ে বিশেষ করে মেরুদন্ডে ব্যাথা, অরুচি, বমি বমি ভাব। চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ, কালো রঙের পায়খানা। দাঁতের মাড়ি, নাক, মুখ ও পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্ত পাত।
চিকিৎসা : দ্রুত জ্বর কমানো একান্ত জরুরী। এজন্য মাথায় পানি দিন এবং ভেজা কাপড় দিয়ে গা মুছে দিন। প্যারাসিটামল ব্যবহার করা যেতে পারে। কোন অবস্থাতেই এসপিরিল জাতীয় ঔষধ খাওয়ানো যাবে না। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা দিলে রক্ত পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা না করে চিকিৎসা করা প্রয়োজন। রোগীকে প্রচুর পরিমাণে তরল ও স্বাভাবিক খাবার খেতে দিন।ডেঙ্গুজ্বর সন্দেহ হলে অবশ্যই দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন। রোগীকে সার্বক্ষণিক মশারীর ভিতর বিশ্রামে রাখুন।
প্রতিরোধ : ফুলের টব, ভাঙ্গা হাড়ি-পাতিল, গাড়ীর পরিত্যক্ত টায়ার, টিনের কৌটা, ভাঙ্গা কলস, ড্রাম, ডাব-নারিকেল খোসা, এয়ারকন্ডিশনার ও রেফ্রিজারেটরের তলায় পানি জমতে দেবেন না। যে সব স্থানে মশা-জন্মাতে পারে সেইসব স্থানে পানি জমতে দেবেন না। বাড়ীর ভেতর, আশ-পাশ ও আঙ্গিনা পরিষ্কার রাখুন।
দিনে ঘুমানোর সময়ও মশারী ব্যবহার করুন। ডাব-নারিকেলের খোসা, ভাঙ্গা কলস, টিনের কৌটা ব্যবহারের পর জমিতে না রেখে মাটিতে পুতে রাখুন।