কচুয়ার খিলমেহের গ্রামের শিকারি নামে একটি বাড়িতে আইনের লোক পরিচয় দিয়ে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে।
শনিবার (১৪ মার্চ) মুখোশধারী একদল ডাকাত রাত ১টায় দালানের জানালার গ্রিল কেটে ঘরে প্রবেশ করে এবং পরিবারের সদস্যদের হাত-পা বেঁধে জিম্মি করে। পরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ সাড়ে চার লাখ টাকার বেশি, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়।
ডাকাতদের হামলায় আহত হলেন: গৃহকর্তা হারুন শিকারী (৬৫), তার স্ত্রী মোরশেদা বেগম (৫৫) এবং পুত্রবধূ তুলি বেগম (২৫)। এছাড়া পরিবারের অন্য সদস্যদেরও বেঁধে রাখা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন পুত্রবধূ তুলী আক্তার, মুন্নী আক্তার এবং নাতনি হামিদা আক্তার। ডাকাতরা তাদের মারধর করে ঘরের বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালিয়ে মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, রাত প্রায় ১টার দিকে অজ্ঞাত ১৫-১৭ জনের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে খিলমেহের গ্রামের হারুন শিকারীর বাড়িতে প্রবেশ করে। তারা প্রথমে ঘরের জানালার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে পড়ে। এরপর পরিবারের সদস্যদের ভয়ভীতি দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং মারধর করে জিম্মি করে রাখে। ডাকাতরা ঘরে থাকা আলমারি ও অন্যান্য স্থানে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা, প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণালংকার এবং ৩টি মুঠোফোন লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী হারুন শিকারী ও তার স্ত্রী মোরশিদা বেগম জানান, ডাকাতরা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোক পরিচয় দিয়ে হঠাৎ করে ঘরে ঢুকে পড়ে। পরে সবাইকে বেঁধে রেখে আলমারি থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
তারা জানান, পরিবারের এক সদস্য প্রবাস থেকে কিছু টাকা পাঠিয়েছিলেন, যা ঘরে রাখা ছিল। সেই টাকাসহ স্বর্ণালংকারও ডাকাতরা নিয়ে গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে রোববার (১৫ মার্চ) সকালে কচুয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
এ বিষয় বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘খবর পেয়ে রাতেই থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত মুখোশধারী এই ডাকাতদের গ্রেফতার করার দাবি জানিয়েছেন।