ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে চাঁদপুরের বিভিন্ন বেকারিতে জোরেশোরে চলছে সেমাই উৎপাদন। কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে ভয়াবহ চিত্র—নোংরা, অস্বাস্থ্যকর ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে তৈরি হচ্ছে ঈদের অন্যতম জনপ্রিয় খাদ্যপণ্য সেমাই। এতে জনস্বাস্থ্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।
চাঁদপুর শহরের কয়েকটি বেকারিতে গিয়ে দেখা যায়, কর্দমাক্ত ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে তৈরি হচ্ছে সেমাইয়ের খামির। উৎপাদনকক্ষে নেই কোনো স্বাস্থ্যবিধি মানার ব্যবস্থা।
কারিগরদের অনেকেই খালি গায়ে কাজ করছেন। কারও হাতে নেই গ্লাভস, মাথায় নেই হেডকভার। ঘামে ভেজা শরীর নিয়েই সরাসরি খাদ্যপণ্য প্রস্তুত করছেন তারা।
অপরিচ্ছন্ন মেঝে ও খোলা ড্রেনের পাশেই তৈরি হচ্ছে জনপ্রিয় লাচ্ছি সেমাই।
উৎপাদনের পর সেগুলো খোলা জায়গায় শুকাতে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে অবাধে উড়ছে ধুলাবালি। কোনো ধরনের ঢাকনা বা সুরক্ষা ছাড়াই খাদ্যপণ্য সংরক্ষণ করা হচ্ছে, যা ভোক্তাদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
কারখানার কারিগররা নোংরা পরিবেশে সেমাই তৈরির বিষয়টি অস্বীকার করেননি। তারা বলেন, আর্থিক সংকটের কারণে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপন বা উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আর্থিক অজুহাতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে এমন খেলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন বাড়াতে হচ্ছে। তবে পরিবেশ উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও নজরদারি না থাকায় তারা সঠিক মান বজায় রাখতে পারছেন না বলেও দাবি করেন।
এ বিষয়ে চাঁদপুর জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল ইমরান বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং ভোক্তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণে জেলার বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কারখানায় অভিযান জোরদার করা হয়েছে। অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
তবে প্রশ্ন উঠেছে—অভিযান ও নজরদারি জোরদারের দাবি থাকলেও বাস্তবে কীভাবে এ ধরনের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন অব্যাহত থাকে?
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন নিয়মিত মনিটরিং, কঠোর শাস্তি এবং লাইসেন্স বাতিলের মতো কার্যকর ব্যবস্থা।
ঈদের আনন্দ যেন বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য এখনই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদক, ব্যবসায়ী ও প্রশাসন—সবার সমন্বিত উদ্যোগই পারে ভোক্তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে।