পবিত্র রমজান মাস এলেই ইফতারের টেবিলে একটু ফল থাকবে—এটাই যেন বাঙালি মুসলমানের স্বাভাবিক প্রত্যাশা। খেজুর, কলা, আপেল, পেঁপে কিংবা তরমুজ—রোজার শেষে শরীরের পুষ্টির জন্য ফলের গুরুত্ব অপরিসীম। কিন্তু বর্তমান দ্রব্যমূল্যের উর্ধ্বগতির কারণে সেই ফল এখন অনেক নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের কাছে বিলাসিতায় পরিণত হয়েছে।
রাজধানী থেকে শুরু করে জেলা শহর ও উপজেলার হাটবাজারগুলোতে ফলের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। আমদানি নির্ভর ফল যেমন আপেল, আঙ্গুর কিংবা কমলার দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। এমনকি দেশীয় ফলের দামও তুলনামূলকভাবে বেশি। এক কেজি ফল কিনে বাসায় নেওয়া এখন অনেকের জন্য যেন এক স্বপ্ন।
বিক্রেতারা বলছেন, আমদানি খরচ, পরিবহন ব্যয়, পাইকারি দামের বৃদ্ধি এবং বাজারে সরবরাহ ঘাটতির কারণে দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ভোক্তাদের অভিযোগ—রমজান এলেই এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নিয়ে দাম বাড়িয়ে দেন।যারা দিন আনে দিন খায়, কিংবা স্বল্প আয়ের চাকরিজীবী পরিবার—তাদের জন্য রমজানে বাজার করা মানেই অতিরিক্ত চাপ। নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য যেমন চাল, ডাল, তেল, চিনি—এসব কিনতেই বাজেটের বেশিরভাগ শেষ হয়ে যায়। ফলে ফল কেনা অনেক সময় তালিকার বাইরে চলে যায়।
একজন রিকশাচালক বলেন, “বাচ্চারা ফল খেতে চায়, কিন্তু সবসময় পারি না। এক কেজি আপেলের দাম দিয়ে তো একদিনের বাজার হয়ে যায়।”
এই বাস্তবতা শুধু একটি পরিবারের নয়; বরং দেশের অসংখ্য নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের প্রতিদিনের গল্প।
ফলের মতো পুষ্টিকর খাদ্য থেকে বঞ্চিত হওয়া দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের জন্য এটি উদ্বেগের বিষয়। রমজান মাসে শরীরের পুষ্টি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখতে ফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জনগণ মনে করছেন— বাজার মনিটরিং জোরদার করা
আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা
ন্যায্যমূল্যের দোকান ও ভ্রাম্যমাণ বাজার বৃদ্ধি
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বিশেষ সহায়তা কর্মসূচি চালু করা
এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কিছুটা হলেও কমতে পারে।
রমজান সংযম ও সহমর্মিতার মাস। এই মাসে যেন কোনো পরিবার শুধু দামের কারণে ইফতারের টেবিলে এক কেজি ফল রাখতে না পারে—এটি সত্যিই দুঃখজনক। প্রয়োজন সম্মিলিত উদ্যোগ, নৈতিকতা ও কার্যকর নজরদারি, যাতে ফল আর স্বপ্ন না হয়ে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই থাকে।