প্রিন্ট তারিখ: ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
Chandpur Tribune Logo

আমরা পালাইনি, পালিয়েছে গণহত্যাকারী খুনী জালেম হাসিনা: আল্লামা মামুনুল হক

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর, ২০২৪

হেফাজত ইসলামের কেন্দ্রীয় মহাসচিব আল্লামা মামুনুল হক বলেছেন, আমরা পালাইনি; পালিয়েছে ইতিহাসের গণহত্যাকারী, খুনী, জালেম শেখ হাসিনা ও তার দোসররা। হেফাজত কখনো পালিয়ে যাবেনা, এ দেশে ইসলাম বিরোধী কোনো নাস্তিক্যবাদী চক্রান্ত বাস্তবায়ন হতে দেওয়া হবে না। আগামীর বাংলাদেশ পরিচালনা করবে হেফাজত। গতকাল শুক্রবার বিকেল ৪টায় চাঁদপুর শহরের হাসান আলী হাই স্কুল মাঠে শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার বিচারের দাবি ও নৈরাজ্যেবাদ প্রতিরোধে খেলাফত মজলিস চাঁদপুর জেলা শাখার উদ্যোগে গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মামুনুল হক বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ফ্যাসিবাদী আ.লীগ সরকার বিনা কারণে গুলি করে পাখির মত মানুষ হত্যা করেছে। ওই জালিম সরকার ২০১৩ সালের ৫ ও ৬ মে শাপলা চত্ত্বরে রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে নবী প্রেমিক মুসলমানদের প্রার্থনারত অবস্থায় গুলি করে হত্যা করেছে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক ট্রাইবুনাল গঠিত হয়েছে। শাপলা চত্ত্বরের খুন, চট্টগ্রামের হাঁটহাজীর খুন, ২৪ সালের ছাত্র-জনতা খুনসহ সকল খুনের বিচার করা হবে এ বাংলার মাটিতে। হেফাজত অনেক বিষয়ে ছাড় দিতে পারে, কিন্তু আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের ঈমান হরণ করার চেষ্টা করা হলে তাদের চেয়ে কঠোর আর কেউ হবে না।
তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা ও আবু সাঈদ, মীর মুগ্ধ হত্যার সাথে জড়িতদের খোঁজে বের করে ধরে এনে বাংলার মাটিতে বিচার করতে হবে। যদি সেই বিচার করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ব্যর্থ হয়। জনতার আদালতে তাদেরকে জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে।
তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনা সরকার তার দল আ. লীগ বিগত ১৬ বছর পর্যন্ত বাংলাদেশ মানুষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণের রাজনীতি করেছে। জুলাই বিপ্লবের অভূতপূর্ব ঐক্য বিনষ্ট করতে নতুন ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। বাংলাদেশের শত্রুরা বিদেশের মাটিতে বসে আবার ষড়যন্ত্র করছে। এ ব্যাপারে সবাইকে সজাগ থাকতে। শেখ হাসিনা এখন গিয়ে খুনের নেশায় মাতাল হয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সঙ্গে আখরা করেছে। যদি সেখান থেকে বসে বাংলাদেশের স্বাধীনতায় হস্তেক্ষেপ করার চেষ্টা করা হয়, তাহলে বাংলাদেশের মাটিতে ভারতীয় দূতাবাস থাকতে পারবে না।
হেফাজত নেতা বলেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের যারা বিগত ১৫ বছর পর্যন্ত হাতুরিলীগের ভূমিকা পালন করেছেন, মনে রাখবেন এখন বাংলাদেশ আর সেই ১৬ বছর আগের ফ্যাসিবাদি পরাধীন বাংলাদেশ নয়। বাংলাদেশ আজ স্বাধীন বাংলাদেশ। ছাত্র জনতার রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে যদি কোনো নৈরাজ্য সৃষ্টির পায়তারা করা হয় তাহলে তাদেরকে প্রতিহত করা হবে।
হেফাজত ইসলাম চাঁদপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লিয়াকত হুসাইন এর সভাপতিত্বে ও চাঁদপুর জেলা যুব মজলিসের সহ সভাপতি মাওলানা নুরে আলমের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন খেলাফত মজলিস, চাঁদপুর জেলা শাখার সমাজ কল্যাণ সম্পাদক, মাওলানা মোজ্জামেল মিয়াজী, সদর উপজেলার সভাপতি মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, সহ সভাপতি মাওলানা আবু ইউছুফ, সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল কাদের, ছাত্র মজলিস, চাঁদপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক হাফেজ ইসমাঈল, চাঁদপুর শহর খেলাফত মজলিসের সেক্রেটারি মাওলানা নুরুল ইসলাম, খেলাফত যুব মজলিস, চাঁদপুর জেলার সাবেক সভাপতি, হাফেজ রুহুল আমিন নেয়ামত, খেলাফত যুব মজলিস, চাঁদপুর জেলার সভাপতি মাওলানা তারেক হাসান, খেলাফত মজলিস, চাঁদপুর জেলা শাখার সমাজ জল্যাণ সম্পাদক, মাওলানা মোজ্জামেল মিয়াজী, সদর উপজেলার সভাপতি মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, সহ সভাপতি মাওলানা আবু ইউছুফ, সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল কাদের প্রমুখ।

 

এরআগে লক্ষ্মীপুর শহরের উত্তর তেমুহনীর লিল্লাহ জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে খেলাফত মজলিস জেলা শাখা আয়োজিত এক গণসমাবেশে ফ্যাসিবাদকে কোনোভাবে আর বাংলাদেশে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া যাবে না মন্তব্য করে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারকে ধন্যবাদ জানাই, সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করে তারা প্রমাণ করেছে, আওয়ামী লীগ এবং তার রাজনীতি ছিল সন্ত্রাস নির্ভর রাজনীতি। আমরা বলতে চাই শুধু ছাত্রলীগ নয়, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগকেও বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে নিষিদ্ধ করতে হবে।
ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের আন্দোলন ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহত্যার বিচারের দাবি এবং নৈরাজ্যবাদ প্রতিরোধে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, যারা আমার মায়ের বুক খালি করেছে, যারা দেশের প্রতিটি শিক্ষাঙ্গনকে মৃত্যুপুরী করেছে, সারা বাংলার ৫৫ হাজার বর্গ মাইলকে এ দেশের সন্তানদের রক্ত দ্বারা লাল করেছে, সে আওয়ামী লীগের বাংলাদেশ রাজনীতি করার কোনো অধিকার নেই। তিনি বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজত ইসলামের নবীপে্িরম তৌহিদী জনতার ওপর পরিচালিত গণহত্যায় এখন পর্যন্ত মামলা দায়ের হয়নি। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। স্বল্প সময়ের মধ্যেই এই গণহত্যার জন্য ২০২১ সালের মোদী বিরোধী আন্দোলনে হত্যাকাণ্ডের জন্য শেখ হাসিনা এবং খুনির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হতে হবে। সে মামলায় বিচার করতে হবে। বাংলার মানুষ ইতিহাসের জঘন্যতম খুনির বিচার দেখতে চায়।
তিনি বলেন, এখন খুনি শেখ হাসিনা যার বিরুদ্ধে শতাধিক হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে, বাংলাদেশের আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। একজন খুনি, একজন হত্যাকারী, গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামিকে ভারত আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়ে আইনের শাসনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করে দিয়েছে। আমরা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাই, যে কোনো মূল্যে আন্তর্জাতিক বিশ্বের সহযোগিতা নিয়ে হলেও এসব হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। ইন্টারপোলে রেড অ্যালার্ট জারি করে খুনি শেখ হাসিনাসহ তার সব দোসরকে ধরে এনে বাংলার মাটিতে বিচার করতে হবে।
গণ সমাবেশে খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা লোকমান হোসাইনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দিন আহমদ, মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসেন মিয়াজি, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মোহাম্মাদ ফয়সাল, মাওলানা আজিজুর রহমান হেলাল, মাওলানা আবু সাঈদ নোমান ও মাওলানা ওজায়ের আমিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের লক্ষ্মীপুরের সমন্বয়ক মো. বায়েজিদ প্রমুখ।

চিফ এডিটর: জাহাঙ্গীর আলম হৃদয়
সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান পাটোয়ারী
আইন উপদেষ্টা: অ্যাডভোকেট শামসুল আলম পাটোয়ারী
সহকারী সম্পাদক: মোঃ সিদ্দিকুর রহমান (নয়ন)
বার্তা সম্পাদক: রাফিয়া নুসরাত নিদি
যোগাযোগ: +৮৮ ০১৮১৭-৭৫০৯১০, [email protected]
অনলাইন সংস্করণ: chandpurtribune.com | © ২০২৬ চাঁদপুর ট্রিবউন