মালদ্বীপ কারেকশনাল সার্ভিসের সদর দপ্তরে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম এবং মালদ্বীপের কারাবিভাগের কমিশনার হাসান জারীর–এর মধ্যে এক সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
মঙ্গলবার ( ১০ফেব্রুয়ারি) সাক্ষাতে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়, যার মধ্যে বাংলাদেশ–মালদ্বীপ কারাবন্দি স্থানান্তর সংক্রান্ত সমঝোতা স্মারক (MoU) দ্রুত সম্পাদন ও বাস্তবায়নের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।
বৈঠকের শুরুতে কারাবিভাগের কমিশনার হাইকমিশনারকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানান এবং এই সাক্ষাৎ আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি বাংলাদেশ–মালদ্বীপ সম্পর্ককে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ বন্ধনের প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেন এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আলোচনাকালে উভয় পক্ষ কারাবন্দি স্থানান্তর সংক্রান্ত MoU দ্রুত সম্পাদনের গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। হাইকমিশনার মালদ্বীপের কারাগারগুলোতে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন এবং এই MoU উভয় দেশের জন্য মানবিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
হাইকমিশনার ড. মো. নাজমুল ইসলাম বলেন, প্রস্তাবিত MoU কার্যকর হলে এটি কারাবন্দিদের কল্যাণ নিশ্চিত, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ও সাক্ষাৎ সহজতর এবং বিদেশি কারাবন্দিদের রক্ষণাবেক্ষণে মালদ্বীপ সরকারের আর্থিক ও প্রশাসনিক চাপ হ্রাসে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে। উভয় পক্ষই এই বিষয়ে দ্রুত অগ্রগতির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
কারাবিভাগের কমিশনার কারা প্রশাসনে ভাষাগত চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরেন এবং কারা কর্মকর্তাদের জন্য বাংলা ভাষা শিক্ষা কার্যক্রম চালুর আগ্রহ প্রকাশ করেন। পাশাপাশি তিনি মালদ্বীপের কারা কর্মকর্তাদের জন্য বাংলাদেশে প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা উন্নয়ন কর্মসূচি আয়োজনের আগ্রহ ব্যক্ত করেন, যাতে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
মান্যবর হাইকমিশনার মালদ্বীপ সরকারের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জানান যে, বাংলাদেশ হাইকমিশন নিয়মিতভাবে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে, যাতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্থানীয় আইন ও বিধি-বিধান মেনে চলতে উদ্বুদ্ধ হন এবং আইনগত জটিলতা এড়ানো যায়।
উভয় পক্ষ কারা প্রশাসনের পাশাপাশি অন্যান্য প্রাতিষ্ঠানিক ও বাণিজ্যিক খাতেও সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্বের ওপর একমত পোষণ করেন। সাক্ষাৎটি উষ্ণ, সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যা বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতিফলন।