নির্বাচনের একেবারে শেষ প্রহরে চাঁদপুরের চারটি আসনে চিংড়ি মাছ প্রতীক–এর প্রার্থীদের ইশতেহার ভোটারদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মাঠে প্রচারণা থেমে গেলেও, হাতে হাতে ছড়িয়ে পড়া এই ইশতেহার ঘিরে কৌতূহল ও বিশ্লেষণ থামেনি।
ইশতেহারের শিরোনাম—“ফরিদগঞ্জের ইশতেহার, আমার ইশতেহার”—এ এলাকাভিত্তিক সমস্যা ও সমাধানের প্রতিশ্রুতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে সংসদে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা জোরদার, সড়ক যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়ন, এবং কৃষিনির্ভরতা থেকে বহুমুখী অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার কথা বলা হয়েছে। তরুণদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নে স্কিল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন, ইমামদের জন্য “স্মুথ কমিউনিটি ফান্ড” উদ্যোগের কথাও ইশতেহারে স্থান পেয়েছে।
সামাজিক খাতে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর কল্যাণ, উপজেলা পর্যায়ে পরিবেশবান্ধব পার্ক ও খেলার মাঠ নির্মাণ, মাদক ও কিশোর গ্যাং নির্মূলে জিরো টলারেন্স নীতি, এবং অনলাইন প্ল্যাটফর্মে জবাবদিহি নিশ্চিত করার অঙ্গীকার রয়েছে। স্বাস্থ্য খাতে ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে আধুনিকায়ন ও ২০০ শয্যার হাসপাতালে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের জন্য খাদ্যসহায়তা, ইউনিয়নভিত্তিক দুর্যোগ মোকাবিলা কার্যক্রম জোরদার এবং পরিবারপ্রতি নারী সদস্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ফ্যামিলি কার্ডের কথাও বলা হয়েছে।
শেষ মুহূর্তে ভোটারদের প্রতিক্রিয়া মিশ্র। অনেকেই বলছেন, ইশতেহারটি বাস্তবায়নযোগ্য হলে এলাকার দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান মিলতে পারে। আবার কেউ কেউ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সক্ষমতা ও সময়সীমা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। সব মিলিয়ে, ভোটের আগের শেষ রাতে চাঁদপুর চার আসনে চিংড়ি মাছ প্রতীকের এই ইশতেহার ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা প্রভাব ফেলবে—তার উত্তর মিলবে ভোটের পরে।