শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “নির্বাচন অত্যাসন্ন। আমি বিশ্বাস করি-সবাই মিলে কাজ করলে দেশ এগিয়ে যাবে।”
তিনি জানান, মহান আল্লাহ তাকে নির্বাচিত করলে চাঁদপুর সদর ও হাইমচরের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বেশ কিছু পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তিনি কাজ করবেন।
প্রধান অঙ্গীকারসমূহ তুলে ধরে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে চাঁদপুর ও হাইমচরে দুটি ইপিজেড (রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চল) স্থাপন করা হবে। পাশাপাশি ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য রপ্তানিমুখী শিল্প কারখানা গড়ে তোলায় নতুন শিল্পোদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া হবে।
ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সমান অধিকারের বিষয়ে তিনি বলেন, মসজিদ, মাদ্রাসা ও সনাতন ধর্মালম্বীসহ সব ধর্মের উপাসনালয়ের মানোন্নয়ন করে সকল ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। সংখ্যালঘু নয়, সংখ্যাগুরু নয়-আমরা সবাই বাংলাদেশি। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে চাঁদপুর-হাইমচর যাতায়াতের প্রধান সড়ক চার লেনে প্রশস্ত করার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, সকল সরকারি খাল উদ্ধার ও সংস্কার করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বজায় রাখা হবে, যাতে কৃষকরা খালের পানি ব্যবহার করে উৎপাদন দ্বিগুণ করতে পারেন।
নদীভাঙন প্রসঙ্গে তিনি জানান, চাঁদপুরকে নদীভাঙন থেকে রক্ষায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নদী শাসন করা হবে। বিষ্ণুপুর থেকে জালিয়ারচর পর্যন্ত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে একটি আধুনিক রিভার ড্রাইভ তৈরির পরিকল্পনাও রয়েছে। তারেক রহমানের ঘোষণার কথা উল্লেখ করে শেখ ফরিদ আহম্মেদ বলেন, কৃষকরা পাবে শস্য বীমা এবং সব পেশার মানুষের জন্য নির্দিষ্ট সরকারি কার্ড ইস্যুর মাধ্যমে জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
এছাড়া বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা, চাঁদপুর-হাইমচরের সকল রাস্তা-ঘাট, ব্রিজ ও কালভার্ট পাকাকরণের আওতায় আনা, যানজট নিরসনে পূর্বমুখী নতুন সড়ক নির্মাণ এবং ঐতিহ্যবাহী ইচলীঘাটে একটি পাকা সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
মেঘনার পশ্চিম পাড়ের রাজরাজেশ্বর, ইব্রাহিমপুর ও নীলকমল ইউনিয়নকে নদীর করাল গ্রাস থেকে রক্ষায় স্থায়ী বন্দোবস্তের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদপুর-৩ আসনে একটি নতুন স্টেডিয়াম স্থাপন করা হবে এবং প্রতিটি স্কুলে নিয়মিত খেলাধুলা ও আন্তঃপ্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে সুপ্ত প্রতিভা বিকাশে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়নের অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, গতানুগতিক শিক্ষার পাশাপাশি গণমুখী কারিগরি শিক্ষার প্রসার ঘটিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা হবে। চাঁদপুর সদর হাসপাতাল ও হাইমচর হাসপাতালে পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত ডিউটি ডাক্তারের মাধ্যমে জরুরি সেবা নিশ্চিত করা হবে।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে তার বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন।
সবশেষে তিনি বলেন, তারেক রহমানের অঙ্গীকার অনুযায়ী আগামীর বাংলাদেশ হবে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজমুক্ত সবার জন্য একটি উন্নত বাংলাদেশ।