চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে চিংড়ি প্রতীক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ২০২৬ ইং সন্ধ্যায় উপজেলার গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নে এসব সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চিংড়ি প্রতীকের প্রার্থী এম. এ. হান্নানের পূর্বনির্ধারিত গণসংযোগ ও উঠান বৈঠক কর্মসূচি ছিল ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে। হোগলি গ্রামে উঠান বৈঠক চলাকালে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকরা পরপর দুই দফা মিছিল নিয়ে মহড়া দেয়। এতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এম. এ. হান্নান তার বক্তব্য বন্ধ করে দেন।
পরবর্তীতে তিনি সমর্থকদের নিয়ে ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ষোলদানা গ্রামে আরেকটি উঠান বৈঠকে যান। সেখানেও প্রতিপক্ষের মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে কর্মসূচি স্থগিত করে তিনি খাজুরিয়া বাজারে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ রাত আনুমানিক ৯টা পর্যন্ত চলতে থাকে। পরে রূপসা বাজার এলাকাতেও সহিংসতার খবর পাওয়া যায়।
রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফরিদগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের সামনে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থক ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা এমরান হোসেন স্বপন মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময় প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ ওঠে।
একই সময় পূর্ব রূপসা উত্তর ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া বাজারের দক্ষিণ মাথায় অবস্থিত চিংড়ি প্রতীকের একটি কার্যালয়েও ভাঙচুর চালানো হয়।
ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় অন্তত ১০ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে চিংড়ি প্রতীকের সমর্থক উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সদস্য সচিব ফারুক হোসেন ও জিসান পাটওয়ারী রয়েছেন। অপরদিকে ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে আহত হয়েছেন পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক এমরান হোসেন স্বপন, রাজু পাটওয়ারী, আবুল কাশেম, মারুফ খান, কবির, কাদের, ইউনুছ, মো. রাসেল, মো. এমরান, হোসেন স্বপন ও আব্দুল কাদিরসহ আরও কয়েকজন।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষই একে অপরকে দায়ী করে বক্তব্য দিয়েছে।
ফরিদগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া চাঁদপুর ট্রিবিউনকে বলেন,
“চিংড়ি প্রতীক ও ধানের শীষ প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে উভয় পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করা হয়েছে। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে থানায় লিখিতভাবে জানাতে বলা হয়েছে।