এক সন্তানের জীবনে মায়ের মৃত্যু যেমন অপূরণীয় ক্ষতি, তেমনি আইনি জটিলতায় থাকা অবস্থায় মাকে শেষবারের মতো দেখা কিংবা জানাজায় অংশ নিতে না পারার যন্ত্রণা আরও গভীর হয়ে ওঠে। এমনই এক হৃদয়বিদারক অভিজ্ঞতার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলে ধরেছেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা শুকুর আলম শুভ।
নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি জানান, গভীর রাতে স্ত্রী’র মাধ্যমে জানতে পারেন তার মা স্ট্রোক করেছেন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এক ঘণ্টার মধ্যে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা অ্যাম্বুলেন্সে করে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে রওনা হলেও, তিনি তখন একটি মিথ্যা মামলায় ফেরারি থাকায় নিরাপদ গোপন অবস্থানে ছিলেন।
রাত আনুমানিক ১টা ২৫ মিনিটে ভাতিজার ফোনে মায়ের সঙ্গে শেষবারের মতো কথা বলেন তিনি। অ্যাম্বুলেন্সের শয্যায় শায়িত অবস্থায় মা সন্তানের কণ্ঠ শুনে উদ্বিগ্ন হয়ে তার অবস্থান জানতে চান। তখন তিনি মাকে আশ্বস্ত করে বলেন, হাসপাতালে পৌঁছালে তিনি সুস্থ হয়ে উঠবেন।
স্ট্যাটাসে উল্লেখ করা হয়, মৃত্যুর ঠিক কয়েক মিনিট আগে মা তাকে বলেন, আমি মারা গেলে তো তুমি আমার জানাজা আর মাটিও দিতে পারবা না বাবা।
এই কথায় তিনি ভেঙে পড়লেও মাকে সাহস দেওয়ার চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে মায়ের কাছে নিজের ভুলের জন্য ক্ষমাও চান। জবাবে মা তিন ভাইয়ের জন্য দোয়ার কথা জানিয়ে তাকে আল্লাহর হেফাজতে থাকার উপদেশ দেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঝুঁকির কথা ভেবে কুমিল্লায় না আসার অনুরোধ জানান।
এরপর ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়। প্রায় ১০ মিনিট পর ভাতিজার ফোনে জানতে পারেন কুমিল্লা মেডিকেলে পৌঁছানোর আগেই বিজয়পুর রেলক্রসিং অতিক্রম করার পর অ্যাম্বুলেন্সেই তার মা ইন্তেকাল করেন।
স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি সবার কাছে মায়ের জন্য দোয়া কামনা করে লেখেন আল্লাহ যেন তার মাকে ক্ষমা করে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন।