সাভার পৌর এলাকার একটি কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকায়। রহস্যজনক এসব হত্যাকাণ্ডের জট খুলে দিয়েছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।
ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো এক নৃশংস ঘাতককে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে পর্দা উঠেছে ভয়াবহ এক সিরিয়াল কিলিংয়ের।
রোববার বিকেলে সাড়ে ৩টার দিকে সাভার মডেল থানা পুলিশ মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’কে আটক করে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একই স্থানে সংঘটিত রোববারের দুইটি হত্যাকাণ্ডসহ পূর্বের পৃথক তিনটি ঘটনাসহ মোট ছয়টি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে অভিযুক্ত সম্রাট।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্লেষণ শুরু করে। ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতেই সন্দেহভাজন হিসেবে সম্রাটকে শনাক্ত করা হয়।
এলাকাবাসী জানান, সম্রাটকে দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় ভবঘুরের মতো ঘোরাঘুরি করতে দেখা যেত। কখনো রাস্তায়, কখনো কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে অবস্থান করলেও তার মধ্যে যে এমন ভয়ংকর ও নৃশংস মানসিকতা লুকিয়ে ছিল, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নৃশংস। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং তদন্তের স্বার্থে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।