“দেশের বাইরে আমার কোনো ঘর নেই”— কথাটি শুধু একটি বক্তব্য নয়, ছিল তার জীবনদর্শনের প্রতিফলন। আপসহীন নেত্রী ও সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ হয়ে পড়েছে গোটা বাংলাদেশ। তার বিদায়ে সারা দেশে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।
শেষ বিদায় জানাতে রাজধানীতে জড়ো হচ্ছেন লাখো মানুষ। দলমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষ, বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয় আবেগঘন পরিবেশ। কারও চোখে অশ্রু, কেউ দু’হাত তুলে প্রার্থনায় মগ্ন— মমতাময়ী এই নেত্রীর পরকাল শান্তিময় হোক, এমন দোয়ারত কণ্ঠই ছিল চারপাশে।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন দৃঢ়তা ও আপসহীনতার প্রতীক। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, ভোটাধিকার এবং মানুষের মৌলিক অধিকারের প্রশ্নে তিনি ছিলেন অবিচল। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল দীর্ঘ সময় ধরে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
শোকাহত মানুষের মুখে মুখে ঘুরছে তার সংগ্রামমুখর রাজনৈতিক জীবনের গল্প। অনেকেই স্মরণ করছেন স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে তার নেতৃত্ব এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে তার ভূমিকার কথা।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে তার স্বামী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে। সেই শেষ বিদায়ে সম্মান জানাতেই সকাল থেকে মানুষের ঢল নামে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন এক অনন্য অধ্যায়। তার প্রস্থান একটি যুগের অবসান হলেও, তার সংগ্রাম ও আদর্শ স্মৃতির পাতায় চিরস্থায়ী হয়ে থাকবে।