শীতের ঘন কুয়াশার কারণে চাঁদপুরের মেঘনা নদীতে গভীর রাতে দুটি যাত্রীবাহী লঞ্চের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে এখন পর্যন্ত ৭ জন যাত্রী নিহত এবং অন্তত শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার পর, চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার হামিদচর এলাকায়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের বরাতে জানা গেছে, ভোলার ঘোষেরহাট থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী এম.ভি জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি রাতের আঁধার ও ঘন কুয়াশার মধ্যে হাইমচর এলাকা অতিক্রম করছিল। এ সময় দিক নির্ণয়ে ব্যর্থ হয়ে ঢাকা থেকে বিএনপির সম্মেলনের যাত্রী নিয়ে বরিশালগামী এম.ভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি সজোরে ধাক্কা দেয় জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটিকে।
যাত্রীরা অভিযোগ করেন, ঘন কুয়াশা থাকা সত্ত্বেও অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল। সংঘর্ষের ফলে জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে দুর্ঘটনার পরপরই অ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চটি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
সংঘর্ষের পর জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি মাঝনদীতে ডুবো-ডুবো অবস্থায় ভাসতে থাকে। এমন অবস্থায় ভোলা থেকে ঢাকাগামী আরেকটি লঞ্চ এম.ভি কর্ণফুলী-৯ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনেক যাত্রীকে উদ্ধার করে ঢাকার উদ্দেশ্যে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, নিহতদের মরদেহ ও গুরুতর আহত যাত্রীদের নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জাকির সম্রাট-৩ লঞ্চটি চিকিৎসার জন্য চাঁদপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। আহতদের অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন।
ঘটনার পর নৌপথে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও লঞ্চ চলাচলে নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।